বক্তারা দাবি করেন, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে একদিকে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্প খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
রাজধানীর ফার্মগেটে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড মিলনায়তনে গতকাল ‘এক্সপান্ডিং লোকাল এগ্রো কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারিং টু ফার্মার রিডিউস ইমপোর্ট ডিপেন্ডেন্সি’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব বিষয় উঠে আসে। দিনব্যাপী এ কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ এগ্রো কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি)।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বামার সভাপতি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সঠিক নীতিমালা, প্রযুক্তির সহায়তা এবং বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ বালাইনাশক খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে। এতে শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদাই পূরণ হবে না; বরং আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বিপিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ আফরোজ বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়ক নীতি যথাযথ বাস্তবায়নে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।’
কর্মশালায় বামার সাধারণ সম্পাদক এমএ মান্নান দেশীয় বালাইনাশক উৎপাদনের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কাঁচামাল সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’ এসব সমস্যা সমাধানে নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি বামার চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
কর্মশালার প্রথম সেশনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্মত উৎপাদন পদ্ধতি এবং গবেষণা-উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
দ্বিতীয় সেশনে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, বাজারসংক্রান্ত সমস্যা, নীতিগত চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে বলে আয়োজকরা জানান।